আমার খুব টাকার দরকার, কিভাবে ফ্রিল্যান্সিং থেকে আমি দ্রুত আয় করতে পারি?

ভাই আমার খুব টাকার দরকার, খুব অর্থ সংকটে আছি আমাকে কাজ শিখান। ভাই পারিবারিক ভীষণ সমস্যায় আছি আমাকে আপনার সাথে কাজে নেন, না হলে আত্মহত্যা ছাড়া সামনে আমার আর কোন উপায় থাকবেনা। ভাই কিছুদিন আগেই আমার বাবা মারা গেছে আমাকে ফ্রিল্যান্সিং শিখান। ভাই গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং শিখে একটা আয়ের ব্যবস্থা করে দেন। ভাই আপনি জাতীর গর্ব, সমাজের গর্ব, আমাদেরকেও কিছু হতে সাহায্য করেন। খুব বিপদে আছি…। ইত্যাদি, ইত্যাদি…।

এরকম কথা বলে প্রতিনিয়ত অনেকেই আমাকে মেসেজ করেন। আপনাদের প্রত্যেকের সমস্যা, পরিস্থিতি এবং ব্যাক্তিতের প্রতি যথাবিহিত সম্মান পূর্বক কিছু কথা বলতে চাই। মন দিয়ে পড়বেন তাহলে আপনাকে অনেকের কাছে ছোট হতে হবেনা এবং হয়তো কথা গুলো আপনাকে জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে।

ফ্রিল্যান্সিং এ দ্রুত আয়ের উপাই কি?

প্রথমেই বলি ফ্রিল্যান্সিং কোন দ্রুত আয়ের জায়গা নয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিং শুরু করলেন আর এখানে থেকে টাকা আয় শুরু হবে ব্যপারটা এমন নয় ভাই। দীর্ঘ দিনের কঠোর অধ্যাবসায় দরকার এখানে। শুরুতেই আপনাকে কম্পিউটার এ ফ্লুয়েন্ট হতে হবে এবং ইন্টারনেটের মৌলিক জ্ঞান বিশদ ভাবে অর্জন করতে হবে সেই সাথে ইংরেজিতে খুব ভালো হতে হবে। এরপর আপনাকে একটা নির্দিষ্ট বিষয় নির্ধারন করে সেই বিষয়ে দক্ষ হতে হবে। যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল মার্কেটিং এরকম অনেক সাবজেক্ট আছে যেগুলোর যেকোন একটা পছন্দ করে সেখানে আপনাকে দক্ষ হতে হবে। কাজ শেখার জন্য ইউটিউব এবং অন্যান্য Ed-tech প্লাটফর্মের হেল্প নিতে পারেন। তারপর আসবে কাজ করার পালা এবং সেই দিল্লি বহুদূর…।

তাহলে কি আমার ফ্রিল্যান্সিং শুরু করা উচিৎ?

এখন একটু ভেবে দেখেন তো ততদিন কি আপনার ধৈর্যে কুলাবে? এই পর্যায়ে যাওয়ার মত সময় কি আপনার হাতে এখন আছে? আপনার হাতে কি মাসের পর মাস বছরের পর বছর এক ঘরে কম্পিউটার নিয়ে বসে থেকে ইন্টার্নেট বিল দিয়ে, শেখার পেছনে সময় ও অর্থ ব্যায় করে কাজে যাওয়ার মত পরিস্থিতি এখন আছে? নাই! কারণ আপনি এখন অর্থকস্টে আছেন, সমস্যায় আছেন, বিপদে আছেন। এখন আপনার প্রয়োজন সার্ভাইভ করার মত কিছু টাকা আসবে এমন কিছু করার। মনে কিছু নিয়েন না। আপনি ফ্রিল্যান্সিং এর ধান্দা বাদ দেন। আপনার যোগ্যতা এবং বর্তমান দক্ষতার মধ্যে যেকোন কাজ খুঁজে নেন। সেটা যেকোণ কাজ হতে পারে। কোন প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি, টিউশনি করা, কোচিং টিচার, স্কুল টিচার, ফুড বা পার্সেল ডেলিভারি, যেকোন দোকানে ম্যানেজার। দরকার পরলে দিন মজুর, অটো বা সিএন জি চালানো, দরকার পড়লে রিস্কা চালানো বা যেকোন কাজ, যেকোন একটা কাজ শুরু করে দিন। জাস্ট শুরু করে দিন। কোন কাজ ছোট নয়। সমাজ কি বললো লোকে কি বললো এদিকে তাকাবেন না। আপনি আপনার পরিবারের দিকে তাকান এবং তাদের জন্য করুন। আপনাকে সার্ভাইভ করতে হবে, টিকে থাকতে হবে। সমাজ আপনাকে ভাত দিবেনা। আপনার দুঃখ আপনাকেই মোচন করতে হবে।

Quick money dream

তাহলে কি ফ্রিল্যান্সিং আমার জন্য নয়?

আপাতত চলার মত, টিকে থাকার মত কিছু টাকা আয় করুন। তারপর নিজের পরিস্থিতি কিছুটা সামলে উঠলে, কিছুটা আর্থিক কষ্টে কমলে, এরপর আপনি ভাবতে পারেন নিজেকে ডেভেলপ করার কথা। আর যদি কম্পিউটার-ইন্টারনেট নিয়ে আপনার খুব খুব ঝোঁক থাকে। অলরেডি আপনি রেগুলার ইন্টারনেট ইউজার এবং বাসায় কম্পিউটার আছে, আবার ইংরেজি টুকটাক জানেন। এরকম হলে আপনি ফেসবুকে, বিডি জবস এ, বিক্রয় ডট কম জবে নজর রাখুন। অনেক আইটি টিম অনেক সময় স্বল্প বেতনে লোক খোঁজে। তেমন সুযোগ পেলে যেকোন জায়গায় ঢুকে পড়ুন। তাহলে অর্থ সংস্থান ও হয়ে গেলো সেই সাথে প্রাক্টিক্যালি শেখারও একটা বন্দোবস্ত হয়ে গেলো। পরবর্তিতে আপনি স্কিলড হলে তখন ফ্রিল্যান্সিং করার কথা ভাবতে পারেন, কিন্তু এখন নয়।

শেষ অংশে কিছু তিতা কথা বলি

আপনার হাতে একটা টাকা নাই তাহলে আপনি লাখ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখেন কিভাবে? ফ্রিল্যান্সিং দুই চার টাকা আয়ের জায়গা নয়, হাজার ডলার আয়ের জায়গা। আপনার যোগ্যতা দিয়ে আপনি দেশী প্রাইভেট একটা কোম্পানিতে চাকরি যোগানের মুরদ রাখেন না তাহলে ইন্টার্ন্যশনাল মার্কেটে প্রতিযোগিতা করে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন কিভাবে?

আইটি সেক্টরে সফল হওয়া যদি এতোই সহজ হতো যে আসলাম আর আয় শুরু হয়ে গেল। আর আমি যদি ম্যাজিশিয়ানের মত আপনাকে সেই শর্টকাট দেখিয়ে দিতে পারতাম, তাহলে সবার আগে সেই ব্যবস্থা আমি আমার ভাই, বোন, পরিবারের লোকজনের জন্য করতাম। কিন্তু ব্যপারটা এতটাও সিম্পল নয়। তাই তাদেরকেও আমি স্কিল ডেভেলপ করার পরামর্শ দিয়েছি তারা নিজেদেরকে গড়ে তুলছে তিলে তিলে… Becasue, there is no shortcut.

আকাশ কুসুম স্বপ্ন দেখা বাদ দিন

টিভি নিউজ, পত্রিকায় যেসব খবর দেখেনঃ “মাত্র ৩ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করে লাখ ডলারয় আয়”, ” ঘরে বসেই কোটি টাকা ইনকাম” এসব খবর অতিরঞ্জিত খবর। এবং যাদের সফলতার কথা শোনেন তারা কেউ ৩ মাসে, ৬ মাসে সফল হয়নি। পেছনের গল্প ঘাটতে গিয়ে দেখেন তাদের এই অবস্থানে আসার পেছন কত বছরের পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় আছে। আমি নিজে ২০১০ সাল থেকে এসব নিয়ে স্টাডি করছি, এবং 2013 সাল থেকে প্রফেশনালি কাজ করছি। আজো এই সেক্টরে নিজেকে শিশু মনে হয়। আমি শেখা শুরু করার পর প্রথম কাজ পেতে সময় লেগেছিল ৩ বছর। এখন মার্কেট আরও প্রতিযোগিতায় ভরপুর। আপনার হাতে সেই সময় আছে? অলিক কল্পনা থেকে বেড় হয়ে বাস্তবতায় আসেন। আগে নিজের পরিস্থিতি ঠিক করেন, নিজেকে বদলান তারপর লাখ টাকার স্বপ্ন দেখবেন…।

আমার কথায় কষ্ট পেলে পেতে পারেন তার জন্য মাফ চাইবো না। কারণ এই কষ্ট পাওয়ার দরকার আছে আপনার। এতদিন কষ্ট পান নাই বলেই আজ কষ্ট পাচ্ছেন। এই কষ্টের জন্য আগামীর দিন গুলো হয়তো ভালো হবে ইনশা আল্লাহ্‌। পরিশেষে আপনার অতীতকে একটু মনে করিয়ে দিইঃ

জীবনকে যে সময় চাবুক মারার কথা ছিল সেই সময় আনন্দ ফুর্তি আর আড্ডায় মেতে ছিলেন। তাই যে সময় আপনার আনন্দ, ফুর্তি করার কথা সে সময় জীবন তো আপনাকে চাবুক মারবেই। একটু ব্যাথা সহ্য করুন আগামীর দিন গুলো ভালো হবে। ভালো থাকবেন।

Leave a Reply