গৌড় এক্সপ্রেস, ফিরে দেখা আমার আমিকে

received 1033880250082473

এই ছবিটা আজ হঠাৎ খুঁজে পেয়ে হাজারটা গল্প মনে পড়ে গেলো। 2017 সালে চেন্নাই থেকে কলকাতা এয়ারপোর্ট হয়ে শেয়ালদাহ স্টেশন থেকে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের উপরতলার বিছানায় শুয়ে তুলেছিলাম ছবিটা। ঐদিন ছিল ঈদুল ফিতরের সকাল। আমি ঘুম থেকে জেগে ফেসবুক স্ক্রল করে দেখছিলাম যাদের সাথে প্রতিবছর ঈদ পালন করি তারা ঈদের নামাজ শেষে ছবি দিচ্ছে। কিন্তু আজকে আমি তাদের সাথে নাই…। আমি আটকে আছি ট্রেনে।

কি ভাবছেন খুব কষ্ট পাইছি? নাহ! ঠিক তার উল্টোটা! আমার জীবনে যত ঈদ কাটিয়েছি আমি এত খুশি কোনদিন ছিলাম না। ঘুম থেকে উঠে ট্রেনের দরজার পাশে দাড়িয়ে সবুজ ফসলের ক্ষেতে তাকিয়ে শুধু একটায় কথা তখন মনে হচ্ছিল। মা আর চিন্তা করোনা, আমি আসছি মা! সুস্থ হবার আশা নিয়ে বাড়ি ফিরছি মা! ডাক্তার বলেছে আমার কান্সার হয়নি…।

জীবনে চলার পথে আমরা অনেক বাধা, বিপত্তি, ভালো, মন্দ, ঠিক ভুলের মুখোমুখি হই। অনেক ঘটনা, দুর্ঘটনা আমাদেরকে পাল্টে দেয়। সেদিনের সেই ট্রেনে শুয়ে মনে মনে ঠিক করেছিলাম, যতদিন বাঁচবো জীবনে আর কোনোদিন স্ট্রেস নিবনা। কিন্তু চলার পথে অনেকভাবে অনেক রকম Distruction চলে আসে।

5 বছর পর আজকে সেইদিনের দিকে ফিরে তাকানোর চেষ্টা করছি। মনে করার চেষ্টা করছি “Why I started all this?”, “In that train, who I decided to become?” যতোই ভাবছি ততই চোখের সামনে পরিষ্কার হচ্ছে নিজের ভুল গুলো। I need to narrow down myself!যেখানে থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে দাঁড়িয়ে পরের 5 বছরকে দেখলে একটা বিশাল জট দেখতে পাচ্ছি। যেই জট পাকানো শুরু করেছি 2019 সালের পর থেকে। Because that’s the time when I started forgetting why did I started. The test of more success, glory, power made me distracted once again. 2018 এর পর থেকে আমার জীবন এত বেশি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে যে ছুটতে ছুটতে আমি পিছে তাকিয়ে দেখার সুযোগ পাইনি যে আমি কোথাও পৌঁছানোর জন্য এসব শুরু করেছিলাম। 🙁

আমি জানি যে চাইলেই আমি বিগত 3 বছরকে একদিনে চেঞ্জ করতে পারবোনা। হয়তো সময় লাগবে। হয়তো 3 বছরের ভুল শোধরাতে 3 দিন লাগবে, বা 30 দিন, বা 3 বছর অথবা 30 বছর। কিন্তু ভুলগুলো শুধরে নেব। তবুও নিজেকে এভাবে হারিয়ে ফেলতে চাইনা। নিজের ট্রাকে ফিরতে চাই…।

ফিরে পেতে চাই সেই আমিকে যে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে সবুজ মাঠের দিকে তাকিয়ে শৈশবে ফিরতে পারে। সেই আমি কে যে ট্রেনের জানালার পাশে বসে চানামুঠ খেতে খেতে রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তী কে ভাবতে পারে। ফিরে পেতে চাই সেই হিমুকে যে কিছু না ভেবেও হলুদ পাঞ্জাবিতে মুড়ে খালি পায়ে ভেবে ভেবে ভাবনায় পাড়ি দিতে পারে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। ফিরে পেতে চাই হাজার বছর ধরে মন্তুর সুতোয় গাঁথা শাপলা ফুলের নির্ভেজাল প্রকৃতি প্রেম। প্রমথ চৌধুরীর সেই সরল প্রঞ্জলতাকে আরেকবার অন্তরে ধারণ করতে চাই। করতে চাই জীবনানন্দ দাশের মত করে জীবন দর্শন। জীবনটাকে বয়ে নিয়ে যেতে চাই মধুসূদন কপোতাক্ষ নদের মত।

হয়তো বয়ে চলার এই পথে পথ বেকে আবারও ভুল পথে যেতে পারি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কাছে এই আমার আরথি, যেন মরুভূমিতে হারালেও স্বৃতির মোহনায় মিলিত হয়ে নিজের পথ খুঁজে পাই। দোয়া প্রার্থী…।

যেখানে থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে দাঁড়িয়ে পরের 5 বছরকে দেখলে একটা বিশাল জট দেখতে পাচ্ছি। যেই জট পাকানো শুরু করেছি 2019 সালের পর থেকে। Because that’s the time when I started forgetting why did I started. The test of little success, glory and achievements made me distracted once again. 2018 এর পর থেকে আমার জীবন এত বেশি পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে গেছে যে ছুটতে ছুটতে আমি পিছে তাকিয়ে দেখার সুযোগ পাইনি যে আমি কোথাও পৌঁছানোর জন্য এসব শুরু করেছিলাম। 😔

আমি জানি যে চাইলেই আমি বিগত 3 বছরের ভুল 3 দিনে ঠিক করতে পারবোনা। হয়তো সময় লাগবে। হয়তো 30 দিন লাগবে, বা 3 বছর অথবা 30 বছর। কিন্তু ভুলের মাঝে নিজেকে হারাতে দেবনা। আবারো নিজের ট্রাকে ফিরতে চাই…। যেখানে থেকে শুরু করেছিলাম সেখানে ফিরতে চাই।

ফিরে পেতে চাই সেই আমিকে, যে ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে সবুজ মাঠের দিকে তাকিয়ে চোখের পলকে শৈশবে ফিরতে পারে। সেই আমি কে যে একাকীত্বের গল্পে কাদতে জানে। আবার, চক্রবাকে নজরুলের মত গর্জে উঠতে জানে। ট্রেনের জানালায় বসে চানামুঠ চিবিয়ে রবীন্দ্রনাথের হৈমন্তীর হাসি কল্পনা করতে জানে…।

আমি ফিরে পেতে চাই সেই হিমুকে যে কিছু না ভেবেও হলুদ পাঞ্জাবিতে মুড়ে খালি পায়ে ভেবে ভেবে ভাবনায় পাড়ি দিতে পারে টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া। ফিরে পেতে চাই হাজার বছর ধরে মন্তুর সুতোয় গাঁথা শাপলা ফুলের নির্ভেজাল প্রকৃতি প্রেমকে। প্রমথ চৌধুরীর সেই সরল প্রঞ্জলতাকে আরেকবার অন্তরে ধারণ করতে চাই। জীবনানন্দ দাশের মত করে জীবন দর্শনে পৃথিবীকে দেখতে চাই প্রেমভরে। জীবনটাকে বয়ে নিয়ে যেতে চাই মধুসূদন কপোতাক্ষ নদের মত…।

হয়তো বয়ে চলার এই পথে দিক হারিয়ে আবারও ভুল পথে যেতে পারি। কিন্তু সৃষ্টিকর্তার কাছে এই আমার আরথি, যেন জীবন নদী মরুভূমিতে হারালেও স্বৃতির মোহনায় মিলিত হয়ে আবারো নিজের পথ খুঁজে পায়। দোয়া প্রার্থী…।

received 1029703920500106
চেন্নাই পৌঁছার আগে কলকাতা এয়ারপোর্ট এ তোলা এই ছবিটা। তখনো জানতাম আমি কান্সার এ আক্রান্ত। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসতে শিখে গেছিলাম ততদিনে। এই ছবিটা আমার আত্মবিশ্বাসের প্রতীক হয়ে থাকবে আজীবন। মৃত্যু সন্নিকটে জেনেও যে ছেলে মৃদু হাসতে জানে, সে পাহাড় সমান বাধা টলাতে জানে।

Leave a Reply